লকডাউন এবং মানসিক প্রশান্তি

‘সময় হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে আমরা শিখি ; সময় হল আগুন যাতে আমরা জ্বলি।’
– ডেলমোর সুয়ারটয

এই পৃথিবীতে আমাদের অনেক কিছু নেই বলে আমরা অভিযোগ করি।আমরা হতাশায় ভুগি, আমরা মনে করি আমাদের কেউ নেই, কিছু নেই। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, আমরা কি আমাদের জীবনে ‘সময়টাকে’ উপহার হিসেবে পাইনি? আজ সকালে যে সূর্য পূর্ব আকাশে উদিত হয়েছে তাকে দেখার সৌভাগ্য কি আমাদের হয়নি? হয়েছে! গতকাল রাত আমাদের শেষ রাত হয়নি এটিও আমাদের সৌভাগ্য!

পুরো বিশ্ব আজ করোনা নামক মহামারী তে আক্রান্ত! স্থবির হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। লকডাউন নামক এক গৃহবন্দি জীবন পার করছি আমরা। যান্ত্রিকতার এই আধুনিক জীবনে একাকিত্ব অনুভব করেন না এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় খুব কম ! ভালোথাকার জন্য সবথেকে বেশি যে জিনিষটার যত্ন নেওয়া প্রয়োজন তা হলো মানসিক স্বাস্থ্য। কিন্তু বেদনাদায়ক হলেও সত্যি যে,আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদাসীন। যত দিন যাচ্ছে, ততোই এটা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। বর্তমান মহামানী করোনা ভাইরাস শুধু একটি নাম নয়, মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের সৃষ্টিকারী এক আতঙ্ক।

পাশ্চাত্য দেশগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় যেটা আমাদের দেশে প্রায় নেই বললেই চলে। আমার এ ক্ষুদ্র জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমার খুব বেশি জ্ঞান নেই।কিন্তু আমি চাই,আমার আশপাশের মানুষগুলো,আমার কাছের মানুষগুলো যেন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হয়, ডিপ্রেসন,স্ট্রেস কিংবা এংজাইটির মতো মানসিক বিষয়গুলো খুব যত্ন সহকারে মোকাবেলা করে।

পুরো পৃথিবী আজ এক খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। আর গৃহবন্দি এ দিনগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য অনেকটা হুমকির মুখে। গৃহকোণে বন্দি হয়ে মনের মাঝে অসুস্থতা সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই সর্বোপরি আমাদের উচিত নিজেকে ব্যস্ত রাখা বা নিজের দক্ষতা বাড়ানো। নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাঝেই মানসিক প্রশান্তি নিহিত। কারণ মনের সুস্থতাই আসল সুস্থতা।

এসব থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বপ্রথম যে কাজটা আমাদের করতে হবে তা হল নির্দিষ্ট একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। যাকে আমরা রুটিন মাফিক জীবন বলে থাকি।এছাড়াও প্রতিদিন নিয়ম করে বিভিন্ন বই পড়া,লেখালেখি করা,রান্না করা,ছবি আঁকা,গান শোনা, ইন্টারনেটের ভালো বিষয়গুলো ব্যবহার করা এবং আয়ত্ব করা,নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করা ইত্যাদি। যে কথাটি না বললেই নয় তা হল সবাই সবার সাথে স্রষ্টার কৃতজ্ঞতা শিকার করেও আমরা দিন শুরু করতে পারি। এছাড়াও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার যেন আসক্তির পর্যায়ে না যায় সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।

সর্বোপরি নিজের মনের যত্ন নিন,গুরুত্ব দিন মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। যা ভালোলাগে তাই করুন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।

গৃহবন্দি এ দিনগুলোতে মনটা যেন বন্দি না হয়,মুক্ত থাকুক মনটা।

 

– সূহা নোমান
এক্সিকিউটিভ মেম্বার।
উইমেন পিস ক্যাফে,বেরোবি।

Recent Blogs